বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামে নৌকা ১২,স্বতন্ত্র আ’লীগ ৩, লাঙ্গল ১

প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৪ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৪ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে নৌকা ১২,স্বতন্ত্র আ’লীগ ৩, লাঙ্গল ১

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বহুল আলোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা,৩টিতে স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছেন। জেলায় নৌকা উঠিয়ে দেয়া দুইটি আসনের মধ্যে একটিতে লাঙ্গলের জয় হলেও বাকি একটি আসনে সম্ভাব্য ডামি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শেঠের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ৯ জন এই প্রথম সংসদে যাচ্ছেন।

ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-১ আসনে ৮৯ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান রুহেল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫২ হাজার ৯৯৫ ভোট।

চট্টগ্রাম -২ আসনের ১ লাখ ৬৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৬৬ ভোট। এ আসন থেকে একতারা প্রতীকের আলোচিত প্রার্থী সাইফুদ্দিন মাইজভারি, ফুলের মালার নজিবুল বশর মাইজভান্ডারিসহ বাকি ৬ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।এরমধ্যে সাইফুদ্দিন পেয়েছেন ৩১৫১ ভোট ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি পেয়েছেন ৩৩১ ভোট।যদিও নৌকা ছাড়া মাঠে সুবিধা করতে না পারা নজিবুল বশর ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে আর প্রচারণা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম -৩ ( সন্দ্বীপ) আসনে ৫৪ হাজার ৭৫৬ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বাবের মতো জয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের প্রধান ডা.জামাল উদ্দিন পেয়েছেন পল ২৮ হাজার ৭০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)আসনটিতে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭০৮ ভোটে জয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আল মামুন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী দিদারুল কবির পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৮০ ভোট। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে দিদারুল ভোটের দুপুরেই নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোটের মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আনিসুল ইসলাম। তিনি পান ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫১ ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)আসনটিতে টানা পঞ্চমবারের মতো জয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তিনি পান ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আজম পান মাত্র ৩ হাজার ১৫৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)আসনটিতে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি পান ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামি ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ ইকবাল হাছান ৯ হাজার ৩০১ ভোট পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম -৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে প্রথমে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল বর্তমান সংসদ সদস্য নোমান আলা মাহমুদকে। পরে সেখান থেকে নোমানকে সরিয়ে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হয়।তবে প্রচার-প্রচারণার মাঠের মতো ভোটযুদ্ধের ধারেকাছেও আসতে পারেননি জাপার প্রার্থী ও ব্যবসায়ী প্সোলায়মান আলম শেঠ। তাঁকে কোণঠাসা করে লড়াই হয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী এবং সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের মধ্যে। ৭৮ হাজার ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে নোমান আল মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছালাম।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয় কুমার চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট সাড়ে ৪১ হাজার।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনটিতে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি পান ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সনজিদ রশিদ চৌধুরী পান ১ হাজার ৯৮২ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাঁচলাইশ) আসননে ৫৯ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সাবেক মেয়র মনজুর আলমকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুলকপি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৩৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসনটিতে ৫১ হাজার ৪৯৪ ভোট পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এম এ লতিফ এমপি। এ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউল হক সুমন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫২৫ ভোট। এ আসন থেকে ভোটের মাঠে ছিলেন আরও ৫ জন।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৩৫ হাজার ২৪০ ভোট।মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন পেয়েছেন ৮ হাজার ২ শত ৯৮ ভোট। যদিও ভোটের দিন সকালে এম এ মতিন ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনেয়ারা-কর্ণফুলী)আসনটিতে ৬০ হাজার ৭৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো জয়ী হয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামি ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাস্টার আবুল হোসেন পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ)আসনটিতে ৭১ হাজার ১২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল জাব্বার পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৮৪ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনটিতে টানা দুইবারের সংসদ সদস্য ও নৌকা প্রতীকের আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬২৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নেজামুদ্দিন নদভী পান ৩৯ হাজার ২৫২ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটন পান ৩২ হাজার ২২০ ভোট।বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত বর্তমান এমপি ও নৌক্ব প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা ভোট গণনার এক ঘন্টা আগেই বাতিল হয়। নির্বাচন চলাকালে এ আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধমকানোর অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে বলা জানায় ইসি।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares