বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৫:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৫:২৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সাম্পান ডেস্ক 

“এ্যা ওয়ার্ল্ড উইথ জিরো থ্যালাসেমিয়া” স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষ্মণ, করণীয়সহ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড়ে ইম্পালা রেস্টুরেন্টে রক্তরোগ, রক্তক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও রক্তস্বল্পতা বিশেষজ্ঞ হ্যামাটোলজিস্ট ডা. মু. জামাল উদ্দিন তানিন এর উদ্যোগে এবং জেনফার বাংলাদেশ লিঃ এর সহযোগিতায় এই বৈজ্ঞানিক সেমিনার এর আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্যামাটোলোজিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. ব্রিগেডিয়ার মোস্তফা আবেদীন।

সেমিনারে মূখ্য আলোচক থ্যালাসেমিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. মু. জামাল উদ্দিন তানিন জানান, মানুষের ভ্রমণের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ ছড়িয়ে পড়ে।আর থ্যালাসেমিয়ার তিনটি পর্যায় রয়েছে। মাইনর, ইন্টারমিডিয়া এবং মেজর। মাইনর পর্যায়ে রক্ত লাগে না, ইন্টারমিডিয়া পর্যায়ে মাঝেমধ্যে রক্ত লাগে। আর মেজর পর্যায়ে নিয়মিত বেশি রক্ত লাগে। ভুক্তভোগীদেরকে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়।

তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়ার লক্ষ্মণ হলো জন্ডিস থাকবে, পেট ফুলে যাবে, চোখ মুখ ফ্যাকাসে থাকবে, চেহারা অন্যরকম হয়ে যাবে, দাঁতগুলো আঁকাবাকা থাকবে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের হিমোগ্লোবিন কম থাকবে, বিলোরুবিন বেড়ে যাবে। বাবা মায়েদের কাছ থেকে শিশুরা থ্যালাসেমিয়া প্রাপ্ত হয়।

ডা. মু. জামাল উদ্দিন তানিন বলেন, বিয়ের আগে বর-কনে উভয়কে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করে নিতে হবে। যদি তাদের মধ্যে কারো থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হয়, তাহলে বিয়েতে না আগানো ভালো। কারণ পরবর্তীতে এটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. ব্রিগেডিয়ার মোস্তফা আবেদীন বলেন, থ্যালাসেমিয়াতে ভয় না পেয়ে সচেতন হতে হবে। থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হলে ডাক্তারের ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। আমরা দেশ থেকে থ্যালাসেমিয়া দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন হলো থ্যালাসেমিয়া মুক্ত পৃথিবী গড়া।

উদ্বোধনী বক্তব্য জেনফার বাংলাদেশের রিজিওনাল এক্সিকিউটিভ ইনচার্জ ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা সবাই মনে করি থ্যালাসেমিয়া রোগীকে শুধু ব্লাড দিলে দূর হয়ে যায়, বিষয়টি এমন না। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রতিষেধক হিসেবে চিলোভা এবং ডিফেরা ঔষধ আসে। এরপর ২০২৪ সালে চিলোভা এফসিটি নামে একটি ট্যাবলেট আসে যেটা খেয়ে থ্যালাসেমিয়া রোধ হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খাওয়া লাগে, যা রোগীদের জন্য কষ্টসাধ্য।

তিনি জানান, জেনফার বাংলাদেশ শুধু ঔষধ নিয়ে কাজ করে না। বিভিন্ন সেমিনার, সচেতনতা বৃদ্ধি প্রোগ্রাম, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার কাজ করে থাকে। আমরা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বাজারে বিভিন্ন ঔষধ নিয়ে আসতেছি। এবছরে থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য ইনজেকশন নিয়ে আসবে জেনফার বাংলাদেশ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে ভীত না হয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সেমিনার শেষে বিভিন্ন ডাক্তার, কনসালটেন্ট, ইন্টার্নশিপ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন ডা. মু. জামাল উদ্দিন তানিন। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রশ্ন করা পাঁচজনকে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন তিনি। ক্রিটিকাল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য ডা. তানিনকে আগত ডাক্তাররা ধন্যবাদ জানান। সেমিনারে চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ ডাক্তার, কনসালটেন্ট, ইন্টার্নশিপরত শিক্ষার্থী সহ জেনফার বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares