আবু রোহামা,বিশেষ প্রতিনিধি
সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনে ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তবে সর্বশেষ কয়েক দিনের হরতাল অবরোধে নগরীসহ জেলাতে দৈনিক প্রায় অর্ধশত ঝটিকা মিছিল বের করা হলেও রবিবার এই সংখ্যা ছিলো তুলনামূলক অনেক কম।জামায়াতের ক্ষেত্রেও হয়েছে একই অবস্থা।রবিবারের অবরোধের সমর্থনে নগরীতে মাত্র একটি ঝটিকা মিছিল করেছে তারা। অপরদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় নগরীতে বিএনপির দুই নেতাকর্মী ছাড়া পুরো জেলাতেই নতুন করে কারও আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ১৮ -২০ টি স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি। তবে এসব মিছিলে মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার সিনিয়র কোন নেতাকে দেখা যায়নি।এরমধ্যে নগরীর আমবাগান এলাকায় মহানগর মহিলা দলের আহবায়ক মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বাধীন মিছিল ছাড়া বাকি মিছিলগুলোতে উপস্থিতি ছিলো হাতেগোনা কয়েকজন।তবে অবরোধের সমর্থনে মিছিল ছাড়াও জেলার কয়েকটি স্থানে আগামী ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে দোকানদার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগ করা হয়।
এদিকে জেলায় ২৪ ঘন্টায় বিএনপির দুই নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।এটি গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে একদিনে সবচেয়ে কম গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।নতুন করে কারাগারে যাওয়া নেতাকর্মীরা হলেন পুর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ এসকান্দর ও পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মিন্টু।
রবিবার সন্ধ্যায় মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ইদ্রিস আলীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,অবরোধের সমর্থনে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের নেতৃত্বে নগরীর একে খান মোড় ও ইস্পাহানি রেল গেইট এলাকায় মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে। মহানগর মহিলাদলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বে আমবাগান, টাইগার পাস ও লালখান বাজার এলাকায় মহানগর বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন ও সাদেকুর রহমান রিপনের নেতৃত্বে রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকায় মিছিল ও লিফলেট বিতরণ, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মো. আলী সাকি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দিন রাসেল, তৌহিদুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় মিছিল হয়েছে।দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনজুর আলম তালুকদার ও সদস্য সচিব জমির উদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে পটিয়া আনোয়ারা সড়কে মশাল মিছিল, চবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদের নেতৃত্বে কাজীর দেউড়ি ও নেভাল রোড এলাকায় মিছিল ও সড়ক অবরোধ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আলিফ উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে চট্টেশ্বরী মোড়ে মিছিল, মহানগর ছাত্রদলের সি. যুগ্ম আহবায়ক আসিফ চৌধুরী লিমনের নেতৃত্বে সিএন্ডবি এলাকায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের গোলপাহাড়, পুরাতন চান্দগাঁও, বন্দর লিংক রোড, সাগরিকা,বন্দর ট্রাক টার্মিনাল,টাইগার পাস,চট্টেশ্বরী রোড ও আরাকান সড়কে অবরোধের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। ।এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
রবিবার হঠাৎ চট্টগ্রামে আন্দোলনের ছন্দপতন নিয়ে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সাবেক এক যুগ্ন আহবায়ক নাম প্রকাশের শর্তে সাম্পান নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তো নেতাকর্মীরা মাঠে আছে।আজকেও(রবিবার) বিভিন্ন জায়গায় মিছিল হয়েছে।তবে আজকে পরিসর কিছুটা কম ছিলো। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি এসেছে হয়তো।তবে দায়িত্বশীল নেতারা ভালোভাবে মোটিভেট করলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
এদিকে প্রায় প্রতিটি হরতাল – অবরোধ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম নগরে ৮-৯ টি করে ঝটিকা মিছিল করলেও রবিবার এই সংখ্যা ছিলো মাত্র একটি।রবিবার ফজরের নামাজের পরপরই পাঁচলাইশে থানা আমীর মাহবুর হাসানের নেতৃত্বে একটি মিছিল ছাড়া নগরীতে অবরোধের সমর্থনে তাদের আর কোন প্রকাশ্য কর্মসূচি চোখে পড়েনি।
