নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সেন্ট স্কলাসটিকা স্কুল এন্ড কলেজের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষর একতরফা কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
শুক্রবার ( ৫ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে
বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবকবৃন্দের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে অভিভাবক প্রতিনিধি আলী ইউসুফ, এনি চৌধুরী, ব্রিজেট ডায়েস, লিমা ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন।বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষক সুরজিৎ পাল ও রাকিব উদ্দিনের শাস্তি ও শিক্ষকতা হতে স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করেন।একইসাথে প্রতিবাদী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ সেলিন কস্তার করা ‘প্রহসনমূলক’ জিডির প্রতিবাদ করেন।
বক্তারা বলেন,দুইজন শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া নিপীড়নের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষগ্রামেতক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছাত্রীটিকে উত্যক্ত করতো। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে সায় না দিলে প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেয়।এই ঘটনায় ছাত্রীর মা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট মৌখিকভাবে জানান এবং প্রতিকার না পেয়ে মহামান্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। স্বাভাবিকভাবে এক্ষেত্রে বিদ্যালয় প্রধান হিসেবে প্রিন্সিপালের নিরপেক্ষ ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু প্রিন্সিপাল এবং তার তাবেদর কয়েকজন সহযোগী শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে আসামীদের পক্ষাবলম্বন করে মনগড়া তদন্ত কমিটির মাধ্যমে একটা ভিত্তিহীন, বানোয়াট তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে এবং সেটা অফিসিয়ালি প্রকাশ না করে আসামীদের পক্ষে মহামান্য আদালতে উপস্হাপনের জন্য আসামিপক্ষের হাতে তুলে দেয়।
তারা বলেন,প্রিন্সিপালের মনগড়া তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী পূর্বেই লিখিতভাবে সম্মানিত আর্চবিশপের নিকট অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। অভিভাবকরা মনে করেন অনাস্হাকৃত তদন্ত কমিটির এই তদন্ত রিপোর্ট ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং সর্বোপরি সমস্ত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি অপচেষ্টা। যা বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও তার কয়েকজন তাবেদার সহযোগী শিক্ষক করে চলেছেন।
অভিভাবক প্রতিনিধিরা বলেন, বিগত ১২ ই জুন তারিখে প্রিন্সিপাল স্থানীয় পুলক খাস্তগীরের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন নতুন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত হবে এবং মৌখিকভাবে উক্ত রিপোর্ট বাতিল বলেও জানান। কিন্তু অদ্যবধি তিনি লিখিতভাবে এই রিপোর্ট বাতিলের ঘোষণা না দিয়ে বরং আসামীদের জামিনের জন্য তা মহামান্য আদালতে পেশে সহায়তা করেন। সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী সম্মিলিতভাবে এই বাতিল ঘোষিত রিপোর্ট লিখিতভাবে বাতিলের আবেদন জানাতে গেলে তিনি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে চারজন সন্মানিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে নগরীর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন। ইতোপূর্বে একাধিকবার অভিযুক্ত শিক্ষক সুরজিত পালের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ আনীত হয় কিন্তু প্রিন্সিপাল কোন ব্যবস্হা গ্রহন করেন নাই। এতে প্রিন্সিপালের অসৎ উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এই ঘটনায় প্রিন্সিপালের এহেন গর্হিত এবং আসামীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।
তারা বলেন, আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়কে কলংকমুক্ত রাখতে চাই। স্কুলের পরিবেশকে আমাদের সন্তানদের জন্য অভয়ারণ্যে পরিণত করতে চাই। আমরা শংকিত আমাদের কন্যাদের নিরাপত্তা নিয়ে। তাই আমাদের প্রাণের দাবি এই যে, অভিযুক্ত শিক্ষক সুরজিৎ পাল ও রাকিব উদ্দিনকে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক এবং শিক্ষকতা হতে স্থায়ী বহিষ্কার করা হোক। সাথে সাথে বর্তমান প্রিন্সিপাল কর্তৃক এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা বন্ধ করা হোক এবং নিরপরাধ সন্মানিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিডি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। সর্বোপরি বিদ্যালয়ে আমাদের কন্যাদের জীবনের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
