নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশের গুলিতে পা হারানো চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফকে আবারও উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার গুলশানে একটি বাসা থেকে তাকে ডিবি পরিচয়ে উঠিয়ে নেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত সাইফুলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাইফুল ইসলাম সাইফ চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সম্পাদক।তিনি বায়েজিদ থানাধীন হিলভিউ বার্মা কলোনির বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিলো।
সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোট ভাই পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ শাহীন বলেন, সাইফুল ইসলাম সাইফ পায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। কিন্তু তাকে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদ শাহীন বলেন, বিগত সময় আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ভাইকে ৩৫টি মামলা দেওয়া হয়। তাকে মেরে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগের আমলের কোন ধরনের উদ্ধার দেখানো নাটক দেখতে চাই না। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে থাকার কারণে ইতোমধ্যে তার একটি পা হারিয়েছে। আমরা জানতে চাই তাকে কার ইশরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসাথে তাকে জনসম্মুখে হাজির করার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে সাইফুলকে দুপুরে আটক করা হলেও পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হয়নি।তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে,চট্টগ্রাম থেকে ডিবির একটি টিম তাকে আটক করেছে।
এই বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম, চট্টগ্রাম থেকে পুলিশের একটি টিম এসেছে। তারা অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। আমরা যতটুকু জানি তারা তাকে নিয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না। আপনার থেকে শুনলাম আমি।তবে খতিয়ে দেখছি।
জানা যায়,আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সোচ্চার ছিলেন সাইফুল ইসলাম। এনিয়ে বেশ কয়েকদফা গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।এরমধ্যে গত ২০২১ সালের জুনে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন সাইফুল।এতে কেটে ফেলা হয় তার একটি পা। এই ঘটনার সাইফুলের মা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাইফুলকে আটক করে ওসি কামরুজ্জামান ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে তার পায়ে গুলি করেন ওসি।
সাইফুলকে ক্রসফায়ারের ওই ঘটনা সেসময় বেশ আলোচিত ছিলো।এই ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুলের চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছিলেন।তবে গত বছর দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।যদিও গত ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।
