বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামের আলোচিত সেই ৪ এমপির শোচনীয় পরাজয়, সাইফুদ্দিনের জামানত বাজেয়াপ্ত

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৪ | ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামের আলোচিত সেই ৪ এমপির শোচনীয় পরাজয়, সাইফুদ্দিনের জামানত বাজেয়াপ্ত

আবু রোহামা, বিশেষ প্রতিনিধি 

বহুল আলোচিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা,৩টিতে স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ এবং একটিতে জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এরমধ্যে বিভিন্ন কারণে আলোচিত চট্টগ্রামের বর্তমান ৪ সংসদ সদস্যের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিপর্যয় আসা নেতাদের মধ্যে সামনে থাকবেন মহাজোটের শরীক তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। চট্টগ্রাম -২ আসন থেকে নৌকা পাওয়ার তালিকায় একেবারেই শীর্ষে ছিলেন বিভিন্ন কারণে আলোচিত -সমালোচিত নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। তবে রহস্যজনক কারণে তাকে নৌকা না দিয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে দেয়া হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তেই একেবারে খেল হারিয়ে ফেলেন ‘রাজনীতির গায়েবে পীর’ নামে পরিচিত নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। এরপরও ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেন তিনি।তবে নৌকা না পেতেই এতোদিনের কাছের লোকজনও সটকে পড়েন এমপি মাইজভান্ডারির কাছ থেকে। একপর্যায়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই ভোটের মাত্র দুই দিন আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।তবে এরপরও রবিবারের নির্বাচনে মাইজভান্ডারির ফুলের মালায় ৩৩১টি ভোট পড়ে।যদিও বাজেয়াপ্ত হয় তাঁর জামানত।

এই নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি ছিলো সবচেয়ে আলোচনায়।নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলামের সমর্থকদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর সমর্থকদের লেগেই ছিলো সংঘাত।শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোতাহেরুল ইসলাম।ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল হক পেয়েছেন মাত্র ৩৫ হাজার ২৪০ ভোট।আর এই ভূমিধ্বস পরজায়ের মধ্য দিয়ে পটিয়ার রাজনীতির মাঠে অনেকটা পিছিয়ে পড়লেন প্রভাবশালী এই এমপি।আসনটি থেকে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এম. এ মতিন পেয়েছেন ৮ হাজার ২ শত ৯৮ ভোট। যদিও ভোটের দিন সকালে এম এ মতিন ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনটিতে টানা দুইবারের সংসদ সদস্য ও নৌকা প্রতীকের আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মোতালেব। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬২৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নেজামুদ্দিন নদভী পান ৩৯ হাজার ২৫২ ভোট। নানা কারণে আলোচিত এমপি নদভীর এই নির্বাচনে মধ্য দিয়ে সাতকানিয়া – লোহাগাড়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য শেষ হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ কবির লিটন পান ৩২ হাজার ২২০ ভোট।বিভিন্ন কারণে আলোচিত সমালোচিত বর্তমান এমপি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রার্থিতা ভোট গণনার এক ঘন্টা আগেই বাতিল হয়। নির্বাচন চলাকালে এ আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধমকানোর অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে বলা জানায় ইসি।

এদিকে জেলায় নৌকা উঠিয়ে দেয়া দুইটি আসনের মধ্যে একটিতে লাঙ্গলের জয় হলেও বাকি একটি আসনে সম্ভাব্য ডামি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সোলাইমান শেঠের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।নির্বাচনে তাঁর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী)আসনে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জোটের মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আনিসুল ইসলাম। তিনি পান ৫০ হাজার ৯৭৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৫১ ভোট।

এদিকে হঠাৎ দল গঠন, রাতারাতি নিবন্ধন পাওয়াসহ নানা কারণে আলোচিত ছিলো মাজার খানকা ভিত্তিক সংগঠন সুপ্রিম পার্টি।দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি  চট্টগ্রাম -২ আসন  থেকে নৌকা প্রতীক পাচ্ছিলেন বলে বেশ গুঞ্জন ছিলো।তবে শেষপর্যন্ত তাকে দলীয় প্রতীক একতারা নিয়ে নির্বাচন করতে হয়েছে।এরমধ্যে ভোটের মাত্র ৫ দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ নিজ দলের জেলা ও উপজেলার নেতাদেরকে ফোন দিয়ে নৌকা বাদ দিয়ে একতারায় কাজ করতে বলেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে  কথা বলেন।একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী আসনটি সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার কথা জানান।এরপর আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী গোপনেই সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারির পক্ষে কাজ করেন।তবে এই নির্বাচনী ফলাফলে তাদের এই  গোপন কাজকর্মের পজিটিভ ফল পাননি শাহজাদা সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি। মাত্র ৩১৫১ ভোট  পাওয়ায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।যেখানে মাইজভান্ডার  দরবারের ফটিকছড়িতেই আছে  কয়েক হাজার আশেক।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares