বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সাড়ে ৪ কোটি টাকার জন্য চমেকে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলো ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৯:০৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৯:০৭ অপরাহ্ণ
সাড়ে ৪ কোটি টাকার জন্য চমেকে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলো ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর

বিশেষ প্রতিনিধি

গত বছরের নভেম্বর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) এসে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস করেন ফটিকছড়ির অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম। সপ্তাহে তিনবার এসে ডায়ালাইসিস করতে হয় তাকে।গত সোমবারও এসেছিলেন তিনি।কিন্তু বুধবার সকালে এসে দেখলেন ডায়ালাইসিস সেন্টারের দরজা বন্ধ।আর সেন্টারের সামনে জটলা পেকেছে তার মতো কিডনি সমস্যায় ভোগা অনেক মানুষ।তাদের অনেকেই স্লোগান দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

বৃহত্তর চট্টগ্রামে সরকারিভাবে কিডনী রোগীদের একমাত্র ডায়ালাইসিস সেন্টার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস (প্রা.) লিমিটেড এর সাথে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি)- আওতায় এখানে কম খরচে ডায়ালাইসিস করানো হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ডায়ালাইসিস করাতে ১০ হাজারের বেশি টাকা লাগলেও এখানে এক হাজার ৫৩০ টাকায় একজন রোগীর ডায়ালাইসিস হয়।যে কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কিডনির জটিলতায় ভোগ নিম্ম মধ্যবিত্ত মানুষের ডায়ালাইসিস করানোর একমাত্র প্রতিষ্ঠান চমেকের এই ডায়ালাইসিস সেন্টার।তবে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চার কোটি টাকা মতো বকেয়া টাকা পাওনা থাকায় ৩১ জানুয়ারি হঠাৎ নোটিশ দিয়ে ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠান এখানে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

চমেকের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারে লাগানো ৩১ জানুয়ারির ওই নোটিশে বলা হয়, ‘ডায়ালাইসিসের মত জরুরি সেবা বন্ধ করার কোন উদ্দেশ্য আমাদের নেই। কিন্তু এ সেবা চালিয়ে যাওয়ার কোন অবস্থাও আমাদের নেই। ২ বছরের বেশি সময়ের বকেয়া জটিলতা অমিমাংসিত থাকায় বর্তমানে আমাদের কার্যকরী তহবিল শূন্য। এমতাবস্থায়, অত্যন্ত পরিতাপের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের বকেয়া প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে সৃষ্ট তহবিল শূন্যতার কারণে কাঁচামাল ক্রয়ে অসমর্থ হওয়ার দরুণ এ জরুরি সেবা হয়তোবা পরবর্তী দুএকদিনের বেশি চলমান রাখা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।’

এদিকে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রোগীর স্বজনেরা। সরেজমিনে দেখা যায়, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার বন্ধ থাকায় রোগীদের ভিড়ে নিচতলায় তিল পরিমাণ দাঁড়ানোর জায়গা নেই। অনেকে চেয়ারে আবার অনেকে মেঝেতে বসে আছেন। আবার এখানে ডায়ালাসিস করাতে আসা রোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত জটিলতায় ভোগা কয়েকজনকে ওপরে নেয়া হচ্ছে। সেখানে চমেক হাসপাতালে কর্ত্পক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকা ৬ টি ডায়ালাসিস মেশিনে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর এর আগে গত ২ জানুয়ারি একইভাবে বকেয়া টাকার অজুহাতে নোটিশ দিয়ে ডায়ালাইসিস বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তারা শর্তসাপেক্ষে আবার সেই ডায়ালাসিস সেবা চালু করে। যদিও সেই সময় সেবাপ্রাপ্তিরা এই সেবা বন্ধের বিষয়ে কোন প্রতিবাদ করেন নি। তবে বুধবার দ্বিতীয় বারের মতো বন্ধ করায় তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।যদিও দুপুরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অনেকে সেখান থেকে চলে যায়।

এদিকে ডায়ালাইসিস বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ‘ তারা ফান্ড না থাকা আর সরকারের কাছে বকেয়া থাকার অজুহাতে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিয়েছে।আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম ঢাকা – চট্টগ্রাম মিলিয়ে ২৩ কোটি টাকা মতো বকেয়া আছে।সেটা চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ৪ কোটি টাকার মতো।এটা এতোবড় কিছু না যে, সাধারণ সেবাটাই বন্ধ করে দিতে হবে।আলোচনার মাধ্যমেই সেটার সমাধান করা যেতো।আসল ব্যাপার হচ্ছে তাদের কাছে এই সেবা দেয়ার এই মুহুর্তে পর্যাপ্ত কেপাসিটি নেই।তাই তারা একটা অজুহাত দিয়ে সরে যেতে চাচ্ছেন।’

তিনি বলেন,দেশ এখন অনেক গিয়ে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য সেবায় বিপ্লব হচ্ছে।চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালেও অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে। এখন কারো কাছে আটকে থাকার পরিস্থিতি আর নেই।আমি উপরের সাথে কথা বলছি।ইনশাআল্লাহ কয়েকদিনের মধ্যে পারমানেন্ট সলিউশন আমরা পাবো।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, স্যান্ডর এর আগেও একই কাজ করেছে।আমরা তাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়েছি।কিন্তু তারা শুনেনি।হুট করে সেবা বন্ধ করে দিয়েছি।বিষয়টি একেবারে ঠিক হয়নি। আমরা তাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে যাবো।আর এই মুহুর্তে রোগীদের জন্য কি করা যায় সেটি নিয়েও ভাবছি।আশাকরি একটি বিকল্প বের হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares