সাম্পান ডেস্ক
প্রায় ৩৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দখলদার ইসরাইলীদের বিরুদ্বে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সশস্ত্র এই সংগঠন ।তাদের হামলায় এপর্যন্ত দশ হাজারের বেশি ইসরাইলীর মৃতু হয়েছে । জানবাজ এই সংগঠনের হামলার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকতে হয় দখলদার ইহুদীদের ।
সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলেরে ভেতরে কমান্ডো স্টাইলে ঢুকে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে হামাস । আকস্মিক এই হামলায় খেল হারিয়ে ফেলেছে ইসরাইল ও তার সহযোগীরা।। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের ভেতরে প্রায় ২০টি পয়েন্টে যুদ্ধ করছে হামাস । আর এতে উভয়পক্ষের সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে । আর নিহতদের বড় একটি অংশ ইসরাইলের সেনাবাহিনীর সদস্য । আর এসময়শতাধিক ইসরাইলীকে বন্দী করেছে এই ফিলিস্তিনিরা।
আরবি ভাষায় হামাস শব্দের আভিধানিক অর্থ সাহস বা উদ্যম।ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়। কট্টর ইসরায়েলবিরোধী আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমাদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে আবদেল আজিজ আল-রান্তিসি ও মাহমুদ জহর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।এদের মধ্যে আহমাদ ইয়াসিন ও রানতিসি ইসরালাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন । বর্তমানে ইসমাইল হানিয়া সংগঠনটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে। তবে মুসলিম বিশ্বের কাছে হামাস ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলন। শুরু থেকেই নীতিগতভাবে প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্বাধীনতাপন্থী সংস্থা পিএলও এর বিরোধিতা করে আসছে দলটি। তাদের দাবি আরাফাত ইসরায়েলের সাথে আপোষ করে চলতে চান। আর দখলদার ইসরায়েলের কোন অস্তিত্বই মানতে নারাজ প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। গাজা ও পশ্চিম তীরের পাশাপাশি ইসরায়েল অধিকৃত সকল ভূখণ্ডকে একক ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করে থাকেন দলটির নেতারা।যে কারণে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সংগঠনটি।
প্রাথমিকভাবে দুইটি উদ্দেশ্য নিয়ে হামাস গঠিত হয়।তাদের প্রথম উদ্দেশ্য সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
২০০৬ সালে গাজার সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে হামাস। ২০০৭ সালে গোটা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ পায় দলটি। সে সময় পশ্চিম তীরের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অধীনে থাকলেও গাজা অঞ্চল হামাসের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।এরপর থেকে ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা ও স্বাধীনতার দাবিতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে হামাস। ২০০৮-০৯, ২০১২, ২০১৪ ও ২০২১ সালে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে জড়ায় দলটি।
হামাসের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। ২০১২ সালে প্রথম রাষ্ট্রনেতা হিসেবে হামাসের সঙ্গে বৈঠক করেন কাতারের আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানি। এ পর্যন্ত হামাসকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে দেশটি।
হামাসের আরেক পৃষ্ঠপোষক তুরস্ক। তবে জার্মানির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংগঠন ও গোষ্ঠী হামাসকে অনুদান দিয়ে থাকে। হামাসকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে ইরান। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের অনান্য গোষ্ঠীগুলোও হামাসকে অস্ত্র সহায়তা দেয়। সুদান এবং মিশরের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাচ্ছে এই প্রতিরোধ যোদ্ধারা।
