দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে ভরে কাভার্ড ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে জ্বালানি সরবরাহ করছিলো। সিএনজি স্টেশন না থাকা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অবহেলার সুযোগে চক্রটি বিপদজনক এই ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছিলো বিপুল অর্থ । চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের কুমিরায় এক বিশেষ অভিযানে চক্রটির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।এইসময় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নন স্ট্যান্ডার্ড ১২০ টি সিএনজি সিলিন্ডারসহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করা হয়।
শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মসজিদ্দা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশন থেকে র্যাব- ৭ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের একটি টিমের যৌথ অভিযানে অনুমোদনহীন এই ১২০ টি সিএনজি সিলিন্ডার ও কাভার্ড ভ্যানসহ ২ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃত হলেন সিএনজি ফিলিং স্টেশনটির সহকারী ম্যানেজার আব্দুল্লাহ হোসাইন জাহিদ( ২২) ও কাভার্ড ভ্যানের ড্রাইভার মানিক (৪৫))।এদের মধ্যে আবুদুল্লাহ হোসাইন জাহিদ স্থানীয় দেলোয়ার হোসেনের পুত্র।আর ড্রাইভার মানিক নোয়াখালীর সেনবাগের মৃত তনু মিয়ার পুত্র। তবে ফিলিং স্টেশনটির মালিক আনোয়ার আফরোজ ও বিশেষভাবে নির্মিত এই কাভার্ড ভ্যানের মালিকরা পলাতক আছেন।
বিষ্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সীতাকুন্ডের কুমিরার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনে সিএনজি স্টেশন থেকে কাভার্ড ভ্যানে থাকা অরক্ষিত সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছিল – এমন একটি সংবাদে র্যাব – ৭ ও চট্টগ্রাম বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের একটি টিম সেখানে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় মেয়াদোত্তীর্ণ, নন স্ট্যান্ডার্ড ১২০টি সিএনজি সিলিন্ডারসহ অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে ভ্যানে রক্ষিত অবস্থায় গ্যাস ভর্তি করা হচ্ছিল। পরে সেখান থেকে সিএনজি স্টেশনের ম্যানেজার ও কাভার্ড ভ্যান চালককে আটক করা হয়।আর কাভার্ড ভ্যানটিসহ সেখানে থাকা ১২০টি সিলিন্ডার জব্দ করা হয়।
জানা যায়, এই কাভার্ড ভ্যান চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দুলাল মিয়ার পুত্র এমদাদুল হকসহ ৩ জনের মালিকানায় পরিচালিত হয়।মাতৃভূমি সংস্থা গ্লোরি এগ্রো প্রোডাক্টস লাগানো এই কাভার্ডভ্যানে বিশেষ কায়দায় ১২৭টি সিলিন্ডার লাগানো থাকে। প্রতি সিলিন্ডারে ৮০ লিটার করে হলে এই ভ্যানে সর্বমোট ৯৬৩০ লিটার গ্যাস ভরা হয়।প্রতি লিটার ৪৫ টাকা টাকা করে নিয়ে তারা এইসব গ্যাস চট্টগ্রামের যেসব এলাকায় আশেপাশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই সেখানের মাইক্রোবাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে কয়েকগুণ দামে বিক্রি করে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া বিষ্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান খান বলেন,দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি এই বিপদজনক কাজ করে করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা র্যাব – ৭ এর সহযোগিতায় সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকার ইলিয়াস ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছি।তবে চক্রের মুলহোতা কাভার্ড ভ্যানের ৩ মালিক ও ফিলিং স্টেশনের মালিককে আটক করা সম্ভব হয়নি।তাদের বিরুদ্ধে গ্যাস আইন ও বিষ্ফোরক আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।আর ওই ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিল হবে।
এই বিষ্ফোরক বিশেষজ্ঞ বলেন,’ এইভাবে সিলিন্ডারে করে গ্যাস বিক্রির কোন ধরনের অনুমোদন নেই। বিষয়টি জেনেবুঝেও চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করে আসছে।এরআগেও আমরা এইরকম কিছু সিলিন্ডার আটক করেছি। আর বিষয়টি আসলে খুবই বিপদজনক। এই ধরেন, যদি কোন কারণে এই সিলিন্ডার বোঝাই এই কাভার্ড ভ্যানে এক্সিডেন্ট হয়,তাহলে গ্যাসের বিষ্ফোরণে পুরো এলাকা ধ্বংস্তূপে পরিণত হবে।
