বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

কলকাতায় মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চবি শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২২ | ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২২ | ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চবি শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় শাজমিলা জিসমাম নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থী মারা গেছেন।একই ঘটনায় তার মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক শিরিন আরা চৌধুরীও আহত হয়েছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) জিসমাম ও তার মা কলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে জিসমাম মারা যায়।

নিহত জিসমাম ইলেকট্রনিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী।তিনি এবি ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার জসিম উদ্দিন চৌধুরীর একমাত্র মেয়ে।তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরের মেহেদীবাগ এলকায় বসবাস করছেন।

জানা যায়, চিকিৎসার জন্য জসিম চৌধুরীর স্ত্রী শিরীণ আরা চৌধুরী উল আজহার দুই দিন আগে কলকাতা গিয়েছিল। সাথে জিসমামসহ তার তিন সন্তানকেই নিয়ে গিয়েছিলেন।এরমধ্যে রবিবার দুপুরে কলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস মা-মেয়েকে ধাক্কা দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে কলকাতা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ দুইদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসমাম মারা যান।তবে এই সময়ের মধ্যে তাঁর মা অধ্যাপক শিরিন চৌধুরীর জ্ঞান ফিরেছে। বর্তমানে তিনি কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কলকাতায় একসাথে যাওয়া জিসমামের বড় ভাই সাজিদান রাফসান জানান, ঈদ উল আজহার দিন (রোববার) দুপুরে কলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে জেব্রা ক্রসিং হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস মা ও বোনকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে কলকাতা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় দুই দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে জিসমাম চলে যান না ফেরার দেশে। মা শিরিন চৌধুরীর জ্ঞান ফিরলেও পুরোপুরি আশংকামুক্ত নন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. রাশেদ মোস্তফা বলেন, ‘ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি বাস মা-মেয়েকে ধাক্কা দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে কলকাতা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছাত্রী জিসমাম মারা গেছেন।জিসমামের মতো একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares