বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

কর্ণফুলীতে কোরআন তেলাওয়াত,হামদ্-নাত ও আযান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪ | ৫:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৪ | ৫:৩১ অপরাহ্ণ
কর্ণফুলীতে কোরআন তেলাওয়াত,হামদ্-নাত ও আযান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

সাস্পান ডেস্ক

কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান মৌলভী বাড়ীতে “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র” ব্যবস্থাপনায় ৮ম বারের মত পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শুক্রবার(২৯ মার্চ) কোরআন তেলাওয়াত, হামদ্-নাত ও আযান প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান, চেয়ারম্যান, “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র” সভাপতিত্বে ও মিনহাজ উদ্দিন খানের পরিচালনায় গোল্ডেন ইস্পাতের সৌজন্যে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,শাহমীরপুর ফয়জুল বারী ফাজিল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা ড.মোহাম্মদ খলিলুর রহমান । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেঝবাহ উদ্দিন খান ।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, এছাড়া অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন’র সচিব মোঃ রেজাউল হক খান, ইউপি মেম্বার সাজ্জাদ হোসেন খান সুমন, মোঃ মিজানুল হক খান, রকিউল হাসান খান সামি, লিয়াকত হোসেন খান খোকন, ব্যাংকার এহতেশামুল হক খান, কলিমুল্লা খান, বদরুদ্দিন খান, মোঃ জহির উদ্দিন টিপু, মোঃ সোহেল, জিহান, রাকিব, অসিউর রহমান, করিম, শাব্বির।
প্রধান অতিথি বলেন, রমজানের শিক্ষা নিয়ে মানুষ ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের পরিচালিত করলে সমাজ থেকে সকল দুর্নীতি জুলুম অন্যায় সকল মন্দ কাজের অবসন ঘটবে। মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান’র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র ও এলাকাবাসী ঐতিহাসিক দেয়াং পাহাড়ে আউলিয়াদের নিদর্শন বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর স্থানটি সংরক্ষণ, মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার ও এই পবিত্র স্থানটি উম্মুক্ত করার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। রমজান মাসে আল্লাহতা’য়ালা কোরআন নাযিল করেছেন। আল কোরআনের একনিষ্ট অনুসরণ, অনুকরণ ও রাসুল করিম (সঃ) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মাধমে বিক্ষিপ্ত অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি আসবেই। ফাউন্ডেশন’র এই ধরনের ধর্মীয় প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেন। তিনি বড়উঠানে একটি হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান বলেন-আমি এবং আমার পরিবার মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। রমজানে একসাথে ইফতার ধনী-গরীব এর মাঝে ভ্রাত্বত্বের বন্ধন, ভুল বুঝাবুঝি অধিকতর সুদৃঢ় হয়। তিনি গোল্ডেন ইস্পাতকে সহযোগিতা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সামাজিক দায়বদ্ধতায় গরীব ও অসহায় মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বড়উঠানে একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ইতোমধ্যে হাসপাতালের জন্য একটি জায়গায় করা হয়েছে। সততা, ত্যাগ, সংযম মানবিকতা যদি থাকে, তাহলে যে কোন কঠিন কাজ সহজে হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব অপরীসিম। তিনি যেকোন প্রতিযোগিতা মুলক অনুষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করার জন্য আহবান জানান।
বিচারক হিসাবে প্রতিযোগিতার দায়িত্ব পালন করেন বড়উঠান মৌলভী বাড়ী ওয়াইজ বিবি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সরওয়ার আলম আলক্বাদেরী ছাহেব, মাওলানা মুহাম্মদ মনছুরুলহক খান, মাওলানা গাজী মুহাম্মদ ইছাক, হাফেজ মুহাম্মদ মোরশেদ ও হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। বিচারকদের সার্বিক তত্ববধানে ছিলেন বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান, চেয়ারম্যান “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন”।
কোরআন তেলাওয়াতে ১ম স্থান মুহাম্মদ হজ্জাতুল্লাহিল গালিব বায়েজিদ,বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলম, ফয়জুল বারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, কর্ণফুলী। ৩য় স্থান মোহাম্মদ হাসান, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। হামদ্-নাতে ১ম স্থান মোহাম্মদ হজ্জাতুল্লাহিল গালিব বায়েজিদ, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান মোহাম্মদ সাজ্জাদ, হযরত মামুন খলিফা হাফেজী মাদ্রাসা, চন্দনাইশ। ৩য় স্থান হাবীবুর রহমান তৈয়বিয়া সুনিড়বয়া মাদ্রাসা, বহদ্দার হাট। আযান-এ ১ম স্থান আহাদ আলম চৌধুরী, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ২য় স্থান আরমান হোসেন, বারখাইন জামিয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা, আনোয়ারা। ৩য় স্থান মোহাম্মদ শেখ আলিফ মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুনিড়বয়া আলিয়া মাদ্রাসা, ষোলশহর। এবার মোট ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে কোরআন তেলাওয়াতে- ৩৫জন, হামদ্-নাতে- ৩২ জন, আযান-এ- ৩১জন সহ মোট ৯৮জন প্রতিযোগিতায় অংগ্রহন করে। পুরস্কার বিতরণ শেষে ইফতার মাহফিলে সকল মানব জাতির মঙ্গল এবং কল্যানের জন্য মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares