নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এক পক্ষ নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন চাইলেও আরেক পক্ষ চাচ্ছে স্বৈরাচার মুক্ত নির্বাচন। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ৫ দিন আগে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ করার একটি পত্র গণমাধ্যমে আসে। আর এতে নির্বাচন আর হচ্ছে না বলে গুঞ্জন উঠেছে।এই ঘটনায় চট্টগ্রাম আইনজীবী পাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পদত্যাগ করা নির্বাচন কমিশনাররা হলেন, মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা এডভোকেট মোহাম্মদ সোলাইমান, নির্বাচনী কর্মকর্তা এডভোকেট উত্তম কুমার দত্ত, তারিক আহমদ, সামশ্রী বড়ুয়া, মো. নুরউদ্দিন আরিফ চৌধুরী।
আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে কমিশন উল্লেখ করেন, আইনজীবী সমন্বয় (আওয়ামী লীগ) পরিষদ দরখাস্ত করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগের প্রস্তাব করে অপরদিকে ঐক্য পরিষদ (বিএনপি-জামায়াত) ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়ন বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। দুটি আবেদনই সমিতির গঠনতন্ত্র বহির্ভূত।
তারা বলেন, কমিশন চায় না সমিতির কোন সদস্য আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের হাতে হেনস্তার শিকার হন। একইসাথে আইনজীবী সমিতির কোন সদস্যের মধ্যে ভাতৃত্ববোধের দূরত্ব ও ঐতিহ্য নষ্ট হোক। পারস্পরিক অবস্থান নির্বাচনের প্রতিকূলে হওয়াতে এবং নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বিভিন্নভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি ও হুমকির সম্মুখিন হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সুষ্ঠভাবে নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। তাই আমরা নির্বাচন পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করছি।
নির্বাচন কর্মকর্তা এডভোকেট মো. নুরউদ্দিন আরিফ চৌধুরী বলেন, একপক্ষ চাচ্ছে স্বৈরাচারেরা নির্বাচনে না আসুক। তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হোক। আরেক পক্ষ চাচ্ছে নির্বাচনে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হোক। দুটোই সংবিধানের পরিপন্থী। এ পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি নির্বাচন করা নিরাপদ হবে না। আমরা কোন আইনজীবী হয়রানি হোক চাইনা। কিংবা আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, মারামারি হোক সেটা চাইনা। তাই সার্বিক কল্যাণে আমরা পদত্যাগ করেছি। পরিস্থিতি শান্ত হোক,তারপর নির্বাচন হবে।
এডভোকেট মো. নুরউদ্দিন আরিফ চৌধুরী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান কমিটি একটি সাধারণ সভা ডেকে এডহক কমিটি করবে। ৬০ দিনের মধ্যে সেই কমিটি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে আবারও তাদের মেয়াদ বাড়িযে নেবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঐক্য পরিষদ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এডভোকেট হাসান আলী চৌধুরী বলেন, কমিশন পদত্যাগ করায় এ অবস্থায় আর নির্বাচন হচ্ছে না। বর্তমান কমিটি একটি এডহক কমিটি করবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কারো মনোনয়ন বাতিল করতে আবেদন করিনি। সাধারণ কোন আইনজীবী করলে করতে পারেন।
