নিজস্ব প্রতিবেদক
মোহাম্মদ মুছা ও মোহাম্মদ নুরুল আলম।বাড়ি দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বোয়ালিয়া পাড়ায় ।দুইজনই ছিলেন চট্টগ্রাম নগরের টেরিবাজারের ব্যবসায়ী। কয়েক মাস আগে কিছুদিনের ব্যবধানে মারা যান তারা। আর এই দুই মৃত ব্যক্তিকেই করা হয়েছে সদ্য ঘোষিত সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য।
জানা যায়,গত ২০ মে শওকত আলী চৌধুরীকে আহবায়ক ও আব্দুর রহিমকে সচিব করে মোট ৫১ সদস্য বিশিষ্ট সাতকানিয়া পৌরসভা বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেয় দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এরমধ্যে আহবায়ক কমিটির সদস্য হওয়া মোহাম্মদ মুছা ও নুরুল আলম মারা গেছেন কয়েক মাস আগে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,সাতকানিয়া পৌরসভা কমিটিতে ৪৩ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মোহাম্মদ মুছা ও ৪৪ নম্বর সদস্য করা হয়েছে মোহাম্মদ নুরুল আলমকে।তারা দুইজনই চট্টগ্রাম শহরের ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি পৌরসভা এলাকার ৭ নং ওয়ার্ড ভোয়ালিয়া পাড়ায়। কয়েক মাস আগেই মারা যান তারা।
এরমধ্যে মৃত নুরুল আলমের মেয়ে সানজিদা ইসরাত বলেন, আমার আব্বা ব্যবসা করতেন।আর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ।জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ তিনি মারা যান।এখন শুনলাম উনাকে বিএনপির পৌর কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
এইদিকে দুইজন মৃত ব্যক্তিকে দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য করা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে সমালোচনা।এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিদ্রুপ, হাস্যরস।
কামাল উদ্দিন নামে বিএনপির এক নেতা লিখেন, ‘ভালোই হলো।ব্যবসা করতে করতে তারা দলে সময় দিতে পারেন নি।এখন ব্যবসা বাণিজ্য নেই।তাই কবর থেকে দলের জন্য সময় দিতে পারবেন।’
সাতকানিয়ার বিএনপির নেতা ও তামালকুন্ডি লেইন বণিক সমিতির যুগ্ন আহবায়ক মোজাম্মেল হক লিখেন,’ দুর্লভ কমিটি পেয়েছে সাতকানিয়া বিএনপি। এরমধ্যে দুইজন কবরবাসীকে পৌরসভা কমিটির সদস্য করা হয়েছে।কবর থেকেই তারা সাতকানিয়া পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য হয়ে কাজ করে যাবেন। যদিও তারা জীবদ্দশায় নগরের টেরিবাজারে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক কল্যাণে কাজ করতেন। আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক।’
এইদিকে মৃত ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, বিষয়টি আমি ঠিক জানিনা।তবে কয়েক বছর ধরেই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলছিল।তাই বিষয়টি হয়তো সেইভাবে খেয়াল করা হয়নি।
