বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

কবরস্থান ও মসজিদ রক্ষায় রেল উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি, লিজ বাতিলের দাবি

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৫ | ৮:১০ অপরাহ্ণ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৫ | ৮:১২ অপরাহ্ণ
কবরস্থান ও মসজিদ রক্ষায় রেল উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি, লিজ বাতিলের দাবি

সাম্পান ডেস্ক 
চট্টগ্রামের বন্দর হালিশহরের গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) এলাকার শতবর্ষী মসজিদ, কবরস্থান, মাজার ও শহীদ ছোবহান স্মৃতি মিলনায়তন রক্ষায় এবং জনস্বার্থবিরোধী লিজ বাতিলের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সিআরবি রেল ভবনে উপদেষ্টার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপদেষ্টা লিজ দেওয়া জমির মধ্যে ধর্মীয় স্থাপনা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো—তা জানতে চান এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে রেলওয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি রেলকর্মীদের আশ্বস্ত করেন যে, রেলের কবরস্থান, মসজিদ ও মাজার রক্ষা করা হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিজিপিওয়াই রেলইয়ার্ড দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রেলওয়ের বিভিন্ন শাখার প্রায় এক হাজার পরিবার বসবাস করে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও রেল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এই শূন্যতা পূরণে রেলকর্মীরা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে গড়ে তোলেন মসজিদ, কবরস্থান ও মিলনায়তন। পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ ছোবহান স্মৃতি মিলনায়তন নির্মিত হয় কর্মচারীদের বেতন থেকে কর্তনকৃত সরকারী অর্থে।
তারা স্মারকলিপিতে অভিযোগ করেন, জেনেশুনে মসজিদ, কবরস্থান এবং মাজারের জায়গা লীজ দিয়েছে রেল যা চুক্তির মধ্যেই উল্লেখ আছে। ধর্মীয়স্থাপনার সাথে ২১.২৯ একর জমি কন্টেইনার টার্মিনালের লিজের আওতায় এনে আওয়ামীলীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান লীজ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অফডক লাইসেন্স বাতিল করেছে এনবিআর। তাছাড়া আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী, বন্দর থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে এমন স্থাপনা স্থাপন করার কথা থাকলেও, মাত্র ১ কিলোমিটার দূরত্বে এই টার্মিনালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জলাধার ও পুকুরও লিজের আওতায় এসেছে, যা সিজিপিওয়াইয়ের অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ নীতিমালা ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষার আইন পরিপন্থী।
স্থানীয় ও রেল কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিযোগ, রমজান মাসের মধ্যে কবরস্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে ফলে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে সিজিপিওয়াইতে ইতিমধ্যে সর্ব দলীয় সাতটি সংগঠন এক সাথে মানববন্ধন করে সিআরবি ভবন ঘেরাও এর ঘোষনা দেন কর্মচারীরা। তাই মানবিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে উপদেষ্টার কাছে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান চান তারা।
স্মারকলিপির দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম আর রাজু, বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সিজিপিওয়াই ইয়ার্ড মাস্টার আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ রেলওয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক, রেলওয়ে শ্রমিক দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা মনোয়ারা বেগম, রেলশ্রমিক দলের বিভাগীয় সম্পাদক মফিজুর রহমান মজুমদার, রেলশ্রমিক দলের জেটি শাখার সভাপতি ছাবের আহমেদ, শহিদুল আলম, রেলওয়ে এমপ্লেয়েজ লীগের জেটি শাখার সভাপতি আজিম উদ্দিন, রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সিজিপিওয়াই শাখার সম্পাদক জাহাংগীর আলম।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares