বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় সাকা পুত্র হুম্মাম

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২২ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এবার ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় সাকা পুত্র হুম্মাম

জালাল রুমি, বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত পরাক্রমশালী ছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ( সাকা) পরিবার। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর নড়বড়ে হয়ে পড়ে সাকার সাম্রাজ্য। সাকার মৃত্যুর পর স্ত্রী ফরহাদ কাদের চৌধুরী কিছুদিন এই সাম্রাজ্যের হাল ধরার চেষ্টা করেন।তবে ২০১৬ সালের জুনে ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর গুম হওয়া ও ৮ মাস পর রহস্যজনকভাবে ফেরত আসার পরই পরিবার নিয়ে বিদেশ পাড়ি দেন তিনি।মুলত এর পরই চট্টগ্রামে সাকার সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে।তবে সেই ‘গুম হওয়া ‘ হুম্মামকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে আবারও চাঙ্গা হচ্ছে সাকা পরিবারের রাজনীতি। সর্বশেষ বুধবার নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বড় ধরনের শোডাউন করে উপস্থিত হওয়া ও ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তরুণ।

বুধবার বিএনপির সমাবেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত হন হুম্মাম কাদের।এরপর বক্তৃতা দিতে তারা নাম ঘোষণা করা হলে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে অনুসারীরা।বক্তৃতায় তিনি বাবা সালাহউদ্দিন কাদেরের মতো নারায়ে তাকবির স্লোগান দিতে থাকেন।এসময় মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আল্লাহ আকবর’ বলে পাল্টা সাড়া দেন।

হুম্মাম বলেন,’আপনারা সকলে সাথে থাকলে আমাদের পরাজিত করার শক্তি কারো নেই। এই আওয়ামী লীগ সরকারকে বলে দিতে চাই, ক্ষমতা ছাড়ার পর একা বাড়িতে যেতে পারবেন না। বাধ্য করবো প্রত্যেকটা শহীদের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে যেতে হবে। যাবার আগে বাবার স্লোগান আপনাদের বলে যেতে চাই —নারায়ে তাকবীর,নারায়ে তাকবীর।’

এদিকে বুধবারের বিএনপির সমাবেশে সাকা সমর্থকদের বড় ধরনের শোডাউন ও হুম্মামের নারায়ে তাকবির স্লোগান এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। বিশেষ করে হুম্মামের স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।একটা অংশের দাবি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী শক্তির নতুন ‘তুর্কি’ হুম্মাম।আরেকটা অংশের দাবি নারায়ে তাকবির জামায়াত শিবিরের স্লোগান।বিএনপি জামায়াত থেকে বের হতে চাচ্ছে।আর হুম্মামরা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছেন।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হয়েও হুম্মাম কাদের কেন জামায়াতের স্লোগান দিলেন জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন,’ এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত স্লোগান।এটা বিএনপির স্লোগান নয়।বিএনপির রাজনীতির অংশ এটা নয়।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা সাম্পান নিউজকে বলেন, ‘ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী দেশের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির একজন কান্ডারী ছিলেন। যে কারণে বিভিন্ন মিডিয়া ও বাকশালিরা তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সবসময় বিতর্কিত করার চেষ্টা করতো।এখন হুম্মামকেও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে এসবে কাজ হবে না।এতে হুম্মামের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে।’

তিনি বলেন,’সালাহউদ্দিন সাহেব সবসময় নারায়ে তাকবির স্লোগান দিতেন।বাবার মতো তাই হয়তো হুম্মাম এই স্লোগান দিয়েছেন।আরে এটা জামাত শিবিরের স্লোগান হতে যাবে কেন? দলমত নির্বেশেষে সব মুসলমান এই স্লোগান দেন। এটাতে তো আমি ভুল কিছু দেখছি না।’

এদিকে নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার জামায়াতের স্লোগান কি – না জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস বলেন, ‘এই স্লোগান নিয়ে বিতর্ক করা আমাদের চরম দৈন্যতার পরিচয়।এটি তওহিদি জনতার স্লোগান। এই স্লোগান কোন ব্যক্তি বা দলের স্লোগান কেন হতে যাবে।পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ব্যানার পোস্টারেও এই স্লোগান লেখা থাকতো।এক কথায় বলি, বিশেষ কাউকে খুশি করতে এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’

তরিকতভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মতিন বলেন, ‘ সাধারণ মানুষকে পরিকল্পিত ভাবে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। এটা তো সব মুসলমানদের স্লোগান।এটা শুধু জামায়াতের স্লোগান নয়।আচ্ছা, জামায়াত শিবির দেয় বলে যদি যদি আল্লাহু আকবর স্লোগান দিতে না পারি তাহলে তারা নামাজ পড়ে বলে কি আমরা নামাজও পড়তে পারবো না? এসব খুব হালকা কথাবার্তা।’

এদিকে হুম্মামের এই স্লোগান নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নারায়ে তাকবির মুসলমানের স্লোগান হলেও এটি এখন একটি গোষ্ঠী ব্যবহার করছে বেশি।তাই হয়তো এটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। বিএনপি নিজেই স্বীকার করেছে এটা তাদের স্লোগান নয়।তাহলে এটি কাদের স্লোগান সেটি স্পষ্ট করা দরকার।’

উল্লেখ্য, প্রয়াত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৩ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ফজলুল কাদের মায়ের সাথে লন্ডনে বসবাস করছেন।মেয়ে ফারজিন কাদের স্বামীর সাথে কানাডায় থাকেন।আর হুম্মাম বেশ কিছুদিন ধরে দেশে অবস্থান করছেন। তবে তিনি ছাড়া বাকি দুই ভাইবোনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares