বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার এস আলমের বিরুদ্ধে কর্মচারির নামে ১১শ’ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৯:২৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | ৯:২৩ অপরাহ্ণ
এবার এস আলমের বিরুদ্ধে কর্মচারির নামে ১১শ’ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ছেলে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের (আইবিবিএল) সাবেক এমডি ও পরিচালকসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় এস আলমের বেতনভুক্ত কর্মচারী গোলাম সারওয়ার চৌধুরীর নামে মাত্র তিন বছরে ব্যাংকটির চাক্তাই শাখা থেকে এক হাজার ৯২ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলা করেন সংস্থাটির উপপরিচালক (অনুসন্ধান টিম লিডার) ইয়াসিন আরাফাত।আর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের ওই মামলায় আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন হলেন সাইফুল আলম মাসুদের ছেলে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলম, সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর আহমদ, সাবেক পরিচালক মো. ফসিউল আলম, কাজী শহীদুল আলম, মো. সিরাজুল করিম, জামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. জয়নাল আবেদীন, খুরশীদ উল আলম, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ সালেহ জহুর ও মোহাম্মদ সোলায়মান, পরিচালক মো. কামরুল হাসান ও সাবেক নমিনি পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী ও কে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, সাবেক ডিএমডি ও চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, মিফতাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ সাব্বির।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭ক/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে এস আলমসংশ্লিষ্ট মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরী চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন। পরের মাসে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। মিথ্যা তথ্যের ওপর জাল কাগজে এ ঋণের জন্য আবেদন করে মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। পরে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই না করেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এ ঋণ অনুমোদন করেন।
প্রথমে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হলেও পরে সেটা ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এ কাজে সহযোগিতা করেন ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি ও পরিচালকসহ ৩৪ কর্মকর্তা।

এই বিষয়ে বাদী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, অনুসন্ধান টিমের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে মামলা দায়েরের অনুমোদনের পর মামলা হয়েছে। যেখানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের (আইবিবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান, এমডি, একাধিক পরিচালকসহ ৫৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares