বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসলামে শিক্ষাগুরুর মর্যাদা

প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২২ | ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২২ | ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ইসলামে শিক্ষাগুরুর  মর্যাদা

আজ ৫ অক্টোবর।১৯৯৪ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগে প্রতিবছর আজকের এই দিনটাকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মানুষ সৃষ্টির শুরু থেকেই এই শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত মানু্ষ।ধর্মীয়ভাবেও শিক্ষকের স্থান স্বীকৃত।ইসলামেও শিক্ষকের মর্যাদা অনেক বেশি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই যে, কুরআন নিজে শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়া। (বুখারি) সুতরাং যিনি শিখান তিনিই তো শিক্ষক। এ হাদিস থেকেও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, শিক্ষক সর্বোত্তম ব্যক্তি।

একবার হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সওয়ারিতে ওঠার জন্য রেকাবে পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রেকাবটি শক্ত করে ধরেন। হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত বললেন, হে রাসুলুল্লাহ’র (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাচাতো ভাই, আপনি হাত সরান। উত্তরে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, না, আলেম ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়।

জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’ তিনি শিক্ষা, শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষক ও শিক্ষার ব্যাপকীকরণে সদা সচেষ্ট ছিলেন। তাইতো বদরের যুদ্ধবন্দিদের তিনি মদিনার শিশুদের শিক্ষা দেয়ার বিনিময়ে মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন, যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন জনৈক বয়স্ক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে হাজির হলে উপস্থিত সাহাবায়ে কিরাম নিজ স্থান থেকে সরে তাকে জায়গা করে দেন। তখন তিনি ইরশাদ করেন, যারা ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করে না, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। (তিরমিজি)

ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা অতি সম্মানিত ও মহান পেশা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদার দিক থেকে শিক্ষকতার পেশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে আমাদের সমাজে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা হয়।

দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে দেখা যায়। যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজ। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ছাড়া কেউই আমার আপন নয়।

আসুন, আমরা শিক্ষকদেরকে যথাযথ মর্যাদা দিই। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করি। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।

সম্পর্কিত পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট



Shares