নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম -২ ফটিকছড়ি আসন থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি উপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।তাঁর স্থলে সদ্য নিবন্ধিত সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারিকে দেয়া হয়েছে সমর্থন।
আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, রাতে ( বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আমাদেরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।পরে আমরা এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগকে জানিয়ে দিয়েছি।
জানা যায়, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি। এরপর ফটিকছড়ির আসন থেকে সনিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে গুঞ্জন উঠে।আর পরের দিন (২৮ ডিসেম্বর) জেলা, উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের উদ্যোগে ফটিকছড়ি সদরে ‘গুজব’ বিরোধী সমাবেশ করা হয়। সেখানে সাইফুদ্দিনের বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেয়া হয় । সমাবেশে বিক্ষুব্ধ নেতারা ঘোষণা দেন, নৌকা সনির আছে এবং থাকবে।তবে শেষপর্যন্ত এই গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরি বলেন, কেন্দ্র থেকে ফোন দেওয়া হয়েছে সত্য। তবে, ফাইনাল কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।আমরা বসেই বিস্তারিত জানবো।
এদিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমি দেখা করেছি।এরপর তিনি আমাকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি জানান।আমাকে ইতিমধ্যে পেয়ারু সাহেব ( জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল) ফোন দিয়েও নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এখন আশা করছি আমার বিজয় নিশ্চিত।আর আমার চাচাও নাকি ( নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি) আজকে জুমার নামাজে বলেছিলেন আমাকে সমর্থন দেয়া হচ্ছে।তবে আমি উনি এটা বলেছিলেন কিনা এখনও নিশ্চিত নই।
সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারিকে সমর্থন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন,” আমি ওইভাবে নির্দেশনা পাইনি।তবে শুনেছি।আর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন জানিয়েছেন , সেটাই দলীয় সিদ্ধান্ত ধরে নিতে হবে।”
ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের বড় একটা অংশের নেতৃত্ব দেয়া বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, ওই আসন আগেই সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার কথা ছিলো।তবে কিভাবে জানি সনি নৌকা পায়।যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেকেই তাঁর ( সনির) পক্ষে কাজ করছেন। যেমন -গতকাল ( বৃহস্পতিবার) ফটিকছড়িতে সনির সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারিও ছিলেন।এখন যেহেতু নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে, সেহেতু আওয়ামী লীগের অনেকেই সাইফুদ্দিনের পক্ষে কাজ করবেন।এই ধরেন আমি ভোট দিলে একতারাকেই দিবো।’
প্রসঙ্গত, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে প্রথমে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছিল সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে।তবে শেষ মুহুর্তে এসে তাকে সরিয়ে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারিকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়।আর এবার নজিবুল বশরের ভাতিজা ও সদ্য গঠিত সুপ্রিম পার্টির প্রধান শাহজাদা সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারির কারণে কপাল পুড়েছে বর্তমান সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সনির।
