নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গাড়ি আটকিয়ে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে পেশায় মাছ ব্যবসায়ী মো. জালালকে (৩৭) হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আজ রবিবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকার মনুমিয়া দীঘির সামনে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. জালাল আনোয়ারা থানার ১১ নম্বর ইউনিয়নের জুইদন্ডী গ্রামের মৃত আলতাফ মুন্সীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারী বলে জানা যায়।
জানা যায়, ভোরে উপজেলার কালাবিবির দীঘির মোড় এলাকায় জামাল আড়ৎ থেকে মাছ কিনতে যাওয়ার সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। দুর্বৃত্তরা তার ডান ও বাম পায়ের হাঁটু এবং হাতের আঙ্গুলসহ বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জালালের ব্যবসায়িক অংশীদার ৬ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি এবং জালাল ভাই পার্টনারে মাছ ব্যবসা করি। আমরা সকালে কালাবিবির দীঘির আড়তে মাছ বিক্রি করতে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে মনু মিয়ার দীঘির সামনে পৌঁছালে জুঁইদন্ডী এলাকার সৈয়দের ছেলে মোক্তার হোসেন, বদরুজ্জামানের ছেলে নুর হোসেন, জাকির ও বোরহানসহ আরো কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আমাদের গাড়িটি আটকায়। এ সময় জালাল গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলে তারা জালালকে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।’
পূর্ব বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল পূর্বের। যাওয়ার সময় হত্যাকারীরা আমাদের বলে গাড়ি থেকে নামলে তোদেরও কোপাব।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে মো. জালাল নামে একজনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমেদ বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
