সাম্পান ডেস্ক
আজ পবিত্র হজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১২০টি দেশের ১৮ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি হজ পালন করছেন। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১৫৭ জন হজ পালন করছেন। তালবিয়া পাঠ এবং মহান আল্লাহ তায়ালার একত্ব ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণায় আজ মুখর আরাফাতের ময়দানের আকাশ-বাতাস।
আজ (৫ জুন, বৃহস্পতিবার) ভোর থেকে দলে দলে হজযাত্রীরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে হাজির হচ্ছেন।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ ময়দানে অবস্থান করবেন বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলমান। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার (৪ জুন) মিনায় অবস্থান করেছেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তারা মক্কা থেকে মিনায় যান। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেন। আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই তারা আরাফাতের ময়দানে যেতে শুরু করেন।
লাখো কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক। ’ অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।
পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ।
হজের তিনটি ফরজের একটি আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সারা বিশ্ব থেকে আসা নানা ভাষার, নানা বর্ণের মুসলিমরা আরাফাতের ময়দানে সারা দিন অবস্থান করবেন। খুতবা ও নামাজের মধ্য দিয়ে এখানে সারা দিন পার করবেন। হাজিরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর জিকির-আসকার ও প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন। হাজিরা এখানে জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন।
সারা দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের পর হাজিরা আজ বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার যাবেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ওয়াজিব। ফজর নামাজের পর সাতটি পাথর সংগ্রহ করবেন। ১০ জিলহজ মিনায় ফিরে তিন জামারায় পাথর নিক্ষেপ, ঈদুল আজহা, কোরবানি, মাথা মুণ্ডন, তাওয়াফে জিয়ারত ও বিদায় তাওয়াফের মাধ্যমে হজ সম্পন্ন হবে।
এসএস
